অধ্যায়ঃ মেহমানদারি
৭৫৫। জাবের (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কাছে একটি দীনার আছে। তিনি বলেনঃ তা তুমি নিজের জন্য খরচ করো। সে বললো, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। তিনি বলেনঃ তা তোমার খাদেমের জন্য বা সন্তানের জন্য খরচ করো। সে বললো, আমার কাছে আরো একটি আছে। তিনি বলেনঃ তা আল্লাহর পথে রেখে দাও। আর তা হচ্ছে সর্বনিকৃষ্ট দীনার। (আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ; আবু হুরায়রা সূত্রে)
ضعه ... বাক্যটি ছাড়া হাদিসটি সহীহ। (আলবানী)
হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
৭৫৯। আবু রুহম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন বৃক্ষতলে (হুদাইবিয়ায়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাইআতকারী সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, আমি তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করি। এক রাতে আমি নৈশ প্রহরায় দাঁড়ালাম। আমি তাঁর নিকটেই পাহারা দিচ্ছিলাম। আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম এবং জেগে থাকতে চেষ্টা করলাম। আমার জন্তুযান তাঁর জন্তুযানের কাছাকাছি এসে পড়লে আমার আশংকা হলো, কখন জানি আমার জন্তুযান আরও কাছাকাছি চলে এলে পাদানিতে রাখা তাঁর পায়ে আমার জন্তুযানের ধাক্কায় ব্যাথা পান। তাই আমি আমার জন্তুযানকে হটাতে থাকলাম। শেষে রাতের কোন এক অংশে আমার চোখে তন্দ্রা এলো এবং আমার জন্তুযান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্তুযানকে ধাক্কা দিলো। তখনো তাঁর পা পদানিতে ছিল এবং তা আমার পায়ের সাথে লেগে গেলো। কিন্তু তবুও আমার ঘুম ভাংলো না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘সজাগ হও’ কথায় আমার ঘুম ছুটলো। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সামনে চলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে গিফার গোত্রের কে কে যুদ্ধে যোগদান থেকে পেছনে রয়ে গেছে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেনঃ ঐ যে গৌর বর্ণ দীর্ঘদেহী যাদের চোয়ালে সামান্য দাড়ি আছে তারা কি করেছে? আমি তাদের পেছনে থেকে যাওয়ার কথা তাঁকে জানালাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ ঐ যে কৃষ্ণবর্ণ খর্বাকৃতির লোকগুলো কি করেছে, শাবকা শাদাখ নামক পানির উৎসে যাদের পশুপাল আছে?
আমি গিফার গোত্রের মধ্যে আমার স্মৃতিচারণ করলাম, কিন্তু সেই গোত্রে তেমন কাউকে স্মরণ করতে পারলাম না। আমার স্মরণ হলো যে, তারা তো আসলাম গোত্রের লোক। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তারা তো আসলাম গোত্রের লোক। তিনি বলেনঃ তাদের কোন সুচতুর কর্মঠ লোককে তার জন্তুযানে আরোহণ করিয়ে আল্লাহর রাস্তায় পাঠাতে তাদের কিসে বাধা দিলো? আমার একথা চিন্তা করতে কষ্ট হয় যে, কুরাইশ বংশীয় মুহাজিরগণ, আনসারগণ, গিফার গোত্রের লোক এবং আসলাম গোত্রের কেউ যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে পিছনে থেকে যাবে। (আহমাদ হাঃ ১৯২৮২)
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
৭৬৩। আবুল হাইসাম (রহঃ) বলেন, একদল লোক উকবা ইবনে আমের (রাঃ) এর নিকট এসে বললো, আমাদের কতক প্রতিবেশী আছে, যারা মদ্যপান করে এবং বদ কাজে লিপ্ত থাকে। আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে শাসকের নিকট অভিযোগ উত্থাপন করবো? তিনি বলেন, না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ দেখতে পেয়ে তা গোপন রাখলে সে যেন জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তানকে কবর থেকে তুলে জীবন দান করলো। (আবু দাউদ, তাবারানী)
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
৭৭০। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ছায়াপথ হলো আসমানের দরজাসমূহের মধ্যকার একটি দরজা এবং রংধনু হলো নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায় মহাপ্লাবনে নিমজ্জিত হওয়ার পর নিরাপত্তার প্রতীক।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
৭৭৬। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তির প্রতি অপর ব্যক্তির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকানো অথবা তার ফিরে যাবার সময় তার দিকে সন্ধানী দৃষ্টিতে তাকানো অথবা তাকে জিজ্ঞেস করা, তুমি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে, এরূপ আচরণ আপত্তিকর।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
৭৮৬। আবু আবদুল আযীয (রহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) রাতে আমাদের এখানে থাকলেন। তিনি একটি উজ্জল তারকার দিকে তাকিয়ে বলেন, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আবু হুরায়রার প্ৰাণ! কোন কোন সম্প্রদায়ের দখলে পার্থিব শাসন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আসলে তারা চাইবে যে, তারা যদি ঐ তারকার সাথে মিলিত হতে পারতো এবং শাসন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব তাদের না থাকতো। অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরে বলেন, তোমার শত্রু নিপাত যাক। প্রাচ্যবাসীরা কি তাদের সেই প্রাচ্যের রাজত্ব-কর্তৃত্বে বিভোর হয়ে আছে? আমি বললাম, হাঁ, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তাদের অমঙ্গল করুন এবং বিহিত ব্যবস্থা করুন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ! তাদেরকে গৌর বর্ণের প্রশস্ত চেহারাবিশিষ্ট ক্রুর স্বভাবের লোকেরা এমনভাবে হাঁকিয়ে বেড়াবে যে, কৃষকদের তাদের খামারে এবং পশু পালকদেরকে তাদের পশুপালে পৌঁছিয়ে দিবে। (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
৭৮৭। মুগীছ ইবনে উমার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমার (রাঃ) তাকে তার মনিব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আল্লাহ এবং অমুক। ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, এভাবে বলো না। তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শামিল করো না। বরং তুমি বলো, আল্লাহর পর অমুক।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
Comments
Post a Comment