Posts

অধ্যায়ঃ কুমন্ত্রনা, কুধারনা ও বাচালতা

১২৯৭। শাহর ইবনে হাওশাব (রহঃ) বলেন, আমি ও আমার মামা আয়শা (রাঃ)-র নিকট উপস্থিত হলাম। মামা বলেন, আমাদের কারো মনের মধ্যে এমন কিছুর উদ্রেক হয়, সে তা ব্যক্ত করলে তার আখেরাত ধ্বংস হয়ে যায় এবং তা প্রকাশ পেলে সেজন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। রাবী বলেন, আয়েশা (রাঃ) তিনবার “আল্লাহু আকবার” ধ্বনি করার পর বলেন, এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কারো অন্তরে তা অনুভব করলে সে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। মুমিন ব্যক্তিই এটা অনুভব করে থাকে। হাদিসের মানঃ যঈফ ১৩০২। বিলাল ইবনে সাদ আল-আশআরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। মুআবিয়া (রাঃ) আবু দারদা (রাঃ)-কে লিখে পাঠানঃ দামিশকের দুষ্কৃতিকারীদের সম্পর্কে আমাকে লিখে পাঠান। তিনি বলেন, আমার সাথে দামিশকের দুষ্কৃতিকারীদের কি সম্পর্ক? আর আমি কোথায় বা তাদের চিনবো? তার পুত্র বিলাল বলেন, আমি তাদের সম্পর্কে লিখবো। অতএব তিনি তাদের তালিকা তৈরি করেন। আবু দারদা (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, কোথা থেকে তুমি জানতে পারলে? তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেই কেবল দুষ্কৃতিকারী সম্পর্কে জানতে পারবে। অতএব তোমার নামটি দিয়ে (তালিকা) শুরু করো। ত...

অধ্যায়ঃ জুয়া ও দাবা/পাশা খেলা

১২৭১। জাফর ইবনে আবুল মুগীরা (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনে জুবাইর (রহঃ) আমার এখানে মেহমান হলেন। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, বলা হতো, উটের জুয়াড়ীগণ কোথায়? তখন দশজন প্রতিযোগী সমবেত হতো এবং জুয়ার উটটির ক্রয়মূল্য নিৰ্দ্ধারণ করতো দশটি উটশাবক। তারা তীরের জুয়ার পাত্রে তীর স্থাপন করে সেটিকে চক্কর দেয়াতো, তাতে একজন বাদ পড়ে নয়জন অবশিষ্ট থাকতো। এভাবে প্রতি চক্করে একজন করে বাদ পড়ে শেষে মাত্র একজন অবশিষ্ট থাকতো এবং সে বিজয়ী হিসাবে তার শাবকসহ অন্যদের নয়টি শাবকও লাভ করতো। এতে নয়জনের প্রত্যেকে একটি করে শাবক লোকসান দিতো। এটাও এক প্রকার জুয়া। হাদিসের মানঃ যঈফ ১২৭৩। রবীআ ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উমার (রাঃ)-র শাসনকালে দুই ব্যক্তি দু’টি মোরগের লড়াইয়ের বাজি ধরে। উমার (রাঃ) মোরগ হত্যার নির্দেশ দেন। এক আনসার ব্যক্তি তাকে বলেন, আপনি কি এমন এক উম্মাতকে হত্যা করবেন যারা (আল্লাহর) গুণগান করে? অতএব তিনি তার নির্দেশ প্রত্যাহার করেন। হাদিসের মানঃ যঈফ ১২৭৫। হুসাইন ইবনে মুসআব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বললো, আমরা দুটি কবুতরের বাজিতে শর্ত লাগাই এবং...

অধ্যায়ঃ জন্মোৎসব ও খতনা অনুষ্ঠান

১২৫৭। উম্মুল মুহাজির (রহঃ) বলেন, আমি রূম এলাকা (এশিয়া মাইনর) থেকে যুদ্ধবন্দিনীরূপে নীত হই। উসমান (রাঃ) আমাদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেন। আমি এবং অপর একজন ব্যতীত আর কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। উসমান (রাঃ) বলেন, এই দুই নারীকে নিয়ে যাও, তাদের (ভগাংকুর) নিচু করো এবং তাদের পবিত্র করো। হাদিসের মানঃ যঈফ ১২৫৮। সালেম (রহঃ) বলেন, ইবনে উমার (রাঃ) আমার ও নাঈমের খতনা করালেন। তিনি আমাদের জন্য একটি মেষ যবেহ করেন। আমাদের স্মরণ আছে যে, আমরা আনন্দভরে শিশুদের বলতাম, আমাদের জন্য একটি মেষ যবেহ করা হয়েছে। হাদিসের মানঃ যঈফ ১২৬০। উমার (রাঃ)-র মুক্তদাস সালেম (রহঃ) বলেন, আমরা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-র সাথে সিরিয়ায় পৌঁছলে তার নিকট এক (খৃষ্টান) ভূস্বামী এসে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি আপনার জন্য আহার্য তৈরি করেছি। আমি আশা করি যে, আপনার সম্ভ্রান্ত পারিষদবর্গসহ আপনি আমার এখানে আসবেন। তা আমার কাজে শক্তি যোগাবে এবং আমার শরাফত বৰ্দ্ধিত হবে। উমার (রাঃ) বলেন, তোমাদের গির্যাসমূহে (জীব-জন্তুর) চিত্রাবলী থাকা অবস্থায় আমরা তাতে প্রবেশ করতে পারি না। হাদিসের মানঃ যঈফ ১২৬১। উম্মুল মুহাজির (রহঃ) বলেন, আমি রুম এলাকায় যুদ্...

ঘুমানোর আদব-কায়দা

১১৯৮। মিসওয়ার (রাঃ)-র কন্যা উম্মু বাকর (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ)-কে তার এক পায়ের উপর অপর পা তুলে শুয়ে থাকতে দেখেছি। হাদিসের মানঃ যঈফ ১২০০। আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যেতে তাকে নিজ পায়ের দ্বারা আঘাত করে বলেনঃ ওঠো, এটা তো জাহান্নামের অধিবাসীর শয়ন। (ইবনে মাজাহ) এই শব্দে হাদিসটি যইফ (আলবানী) হাদিসের মানঃ যঈফ ১২০২। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি যখন বসবে তখন তার জুতাজোড়া তার পাশেই (খুলে) রাখবে। এটাই সুন্নাত নিয়ম। (আবু দাউদ) হাদিসের মানঃ যঈফ ১২০৫। আলী ইবনে উমারা (রহঃ) বলেন, আবু আইউব আনসারী (রাঃ) এলে আমি তাকে নিয়ে উন্মুক্ত ছাদে উঠলাম। তিনি নেমে এসে বলেন, আমি এখানে রাত কাটালে আমার ব্যাপারে (আল্লাহর) কোন যিম্মাদারি নাই। হাদিসের মানঃ যঈফ ১২০৮। মুসলিম ইবনে আবু মরিয়ম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমার (রাঃ) তার ঘর থেকে বাইরে রওয়ানা হওয়ার সময় বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদ রাখো এবং আমার থেকে (অন্যদেরও) নিরাপদ রাখো”। হাদিসের মানঃ যঈফ ১২০৯। আ...

অধ্যায়ঃ সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

১১৪৭। সুফিয়ান ইবনে মুনকিয (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) প্রায়ই কিবলামুখী হয়ে বসতেন। সূর্যোদয়ের পর ইয়াযীদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত (রহঃ) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) ব্যতীত তিনি এবং উপস্থিত সকলে সিজদা করলেন। তিনি বলেন, তুমি কি তোমার সংগীদের সিজদা লক্ষ্য করেনি? তারা নামায পড়া যায় না এমন সময় সিজদা করেছে। হাদিসের মানঃ যঈফ ১১৫৩৷ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, উমার (রাঃ) সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত হলে যারা তাকে ধরে তার ঘরে নিয়ে আসেন, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! বাইরে গিয়ে দেখো, কে আমাকে হামলা করেছে এবং আমার সাথে আর কে আহত হয়েছে? আমি বাইরে গিয়ে তাকে খবর দেয়ার জন্য ফিরে এলাম। দেখি যে, ঘর লোকে লোকারণ্য। তাই আমি তাদের ঘার ডিঙ্গিয়ে সামনে যেতে পছন্দ করলাম না। আমি ছিলাম উঠতি বয়সের যুবক। অতএব আমি বসে পড়লাম। আর তিনি কাউকে কোন কাজে পাঠালে নির্দেশ দিতেন, সে যেন ফিরে এসে তাকে তা অবহিত করে। তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ইত্যবসরে কাব (রাঃ) এসে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমীরুল মুমিনীনের দোয়া করা উচিৎ যাতে আল্লাহ ত...

অধ্যায়ঃ চিঠিপত্রের আদান-প্রদান

১১৩৮। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নবী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি..... অতঃপর রাবী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন এবং তার প্রতিপক্ষ তাকে লিখলো, অমুকের তরফ থেকে অমুককে (বুখারীতে কিতাবুল কাফালার প্রথম অনুচ্ছেদ শিরোনামের অধীন হাদীসটি সবিস্তারে উক্ত হয়েছে)। হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f) ১১৪৫। সাইফ ইবনে ওয়াহব (রহঃ) বলেন, আবু তুফাইল (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার বয়স কতো? আমি বললাম, তেত্রিশ বছর। তিনি বলেন, আমি কি তোমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করবো না, যা আমি হুযায়ফা (রাঃ)-এর নিকট শুনেছি? আমর ইবনে সুলাই (রাঃ) নামক মুহারিব খাসফার এক ব্যক্তি, যিনি সাহাবী ছিলেন এবং যিনি ছিলেন তখন আমার বয়সী এবং আমি ছিলাম তোমার বয়সী। আমরা এক মসজিদে হুযায়ফা (রাঃ)-র নিকট আসলাম। আমি সমাবেশের একেবারে শেষ প্রান্তে বসলাম। আমর (রাঃ) উঠে গিয়ে হুযায়ফা (রাঃ)-র সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর বান্দা! আপনার রাত কেমন কেটেছে বা আপনার দিন কেমন কেটেছে? তিনি বলেন, আমি আল্লাহর প্রশংসা করি। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এসব কি কথা যা আপনার বরাতে আমাদের নিকট পৌঁছে? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, ...

অধ্যায়ঃ দেখা-সাক্ষাতের জন্য অনুমতি প্রার্থনা

১০৬৭। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত (আল্লাহর বাণী) “তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা যেন তোমাদের অনুমতি প্রার্থনা করে” (সূরা নূরঃ ৫৮)। তিনি বলেন, এই নির্দেশ পুরুষদের জন্য, নারীদের জন্য নয়। হাদিসের মানঃ যঈফ ১০৭১। মূসা ইবনে তালহা (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতার সাথে আমার মায়ের ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি ভেতরে প্রবেশ করলে আমিও তার অনুসরণ করলাম। তিনি পেছনে ফিরে আমার বুকে সজোরে আঘাত করে আমাকে আমার নিতম্বের উপর বসিয়ে দিলেন, অতঃপর বলেন, অনুমতি না নিয়েই তুমি প্রবেশ করলে? হাদিসের মানঃ যঈফ ১০৭২। জাবের (রাঃ) বলেন, যে কোন ব্যক্তি তার সন্তানের নিকট এবং মায়ের নিকট অনুমতি চাইবে, তিনি বৃদ্ধা হলেও, ভাই, বোন ও পিতার নিকটও প্রবেশানুমতি চাইবে। হাদিসের মানঃ যঈফ ১০৭৪। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, মানুষ তার পিতা-মাতা ও ভাই-বোনের নিকট প্রবেশানুমতি চাইবে। (তাবারী) হাদিসের মানঃ যঈফ ১০৯২। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কারো দৃষ্টি (ভেতরে) চলে গেলে তার জন্য অনুমতি নাই। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ) হাদিসের মানঃ যঈফ ১০৯৯। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু...