অধ্যায়ঃ সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি
১১৪৭। সুফিয়ান ইবনে মুনকিয (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) প্রায়ই কিবলামুখী হয়ে বসতেন। সূর্যোদয়ের পর ইয়াযীদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত (রহঃ) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) ব্যতীত তিনি এবং উপস্থিত সকলে সিজদা করলেন। তিনি বলেন, তুমি কি তোমার সংগীদের সিজদা লক্ষ্য করেনি? তারা নামায পড়া যায় না এমন সময় সিজদা করেছে।
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৫৩৷ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, উমার (রাঃ) সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত হলে যারা তাকে ধরে তার ঘরে নিয়ে আসেন, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! বাইরে গিয়ে দেখো, কে আমাকে হামলা করেছে এবং আমার সাথে আর কে আহত হয়েছে? আমি বাইরে গিয়ে তাকে খবর দেয়ার জন্য ফিরে এলাম। দেখি যে, ঘর লোকে লোকারণ্য। তাই আমি তাদের ঘার ডিঙ্গিয়ে সামনে যেতে পছন্দ করলাম না। আমি ছিলাম উঠতি বয়সের যুবক। অতএব আমি বসে পড়লাম। আর তিনি কাউকে কোন কাজে পাঠালে নির্দেশ দিতেন, সে যেন ফিরে এসে তাকে তা অবহিত করে। তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।
ইত্যবসরে কাব (রাঃ) এসে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমীরুল মুমিনীনের দোয়া করা উচিৎ যাতে আল্লাহ তাকে এই উম্মাতের জন্য জীবিত রাখেন। অন্যথায় তিনি তাকে তুলে নিলে এই এই (অনিষ্ট) ঘটতে পারে। এমনকি কাব (রাঃ) মোনাফিকদের নাম-উপনাম ও তাদের সংখ্যা পর্যন্ত উল্লেখ করেন। আমি বললাম, আপনি যা বললেন তা আমি তার নিকট পৌছাবো। কাব (রাঃ) বলেন, তুমি তার কাছে পৌছাবে এই উদ্দেশেই তো আমি বলেছি। এবার আমি (ইবনে আব্বাস) সাহস সঞ্চার করে উঠে দাঁড়ালাম এবং লোকজনের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে তার শিয়রে গিয়ে বসলাম।
আমি বললাম, আপনি আমাকে এজন্য পাঠিয়েছিলেন। আপনার সাথে আরো তেরোজন আহত হয়েছেন। কুলাইব আল-জাযযারও আহত হয়েছেন, তখন তিনি উখলির (পানির চৌবাচ্চা) নিকট উযু করছিলেন। আর কাব (রাঃ) আল্লাহর শপথ করে এই এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাবকে ডাকো। তিনি কাব (রাঃ)-কে ডাকলেন। উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি বলেছেন? তিনি বলেন, আমি এই এই কথা বলেছি। উমার (রাঃ) বলেন, না, আল্লাহর শপথ আমি দোয়া করবো না। আল্লাহ যদি উমারকে ক্ষমা না করেন তবে সে তো হতভাগ্য।
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৫৬। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার সঙ্গীরাই অন্যদের চেয়ে আমার নিকট অধিক সম্মানের পাত্র, যদিও তারা লোকজনের ঘাড় টপকিয়ে এসে আমার নিকট বসে। (পূর্বোক্ত বরাত)
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৬৬। আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে কারো নিকট পাঠালে তুমি (অপরকে) অবহিত করো না যে, কেন আমি তোমাকে তার নিকট পাঠিয়েছি। অন্যথায় শয়তান ঐ সময় তার জন্য মিথ্যা রচনা করবে।
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৬৭। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তির দিকে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকানো অথবা সে উঠে চলে গেলে তার দিকে নজরদারি করা অথবা তাকে জিজ্ঞেস করা, তুমি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে ইত্যাকার আচরণ দূষণীয়।
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৬৮। মালেক ইবনে যুবাইদ (রহঃ) বলেন, আমরা রাবাযা নামক স্থানে আবু যার (রাঃ)-র নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোথা থেকে আগমন করেছো? আমরা বললাম, মক্কা থেকে অথবা বাইতুল আতীক (কাবা) থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এটাই কি তোমাদের কাজ ছিল? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, এর সাথে কি ব্যবসা-বাণিজ্য ছিলো না? আমরা বললাম, না। তিনি বলেন, তোমাদের কাজ অব্যাহত রাখো।
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৭০। উরয়ান ইবনুল হায়ছাম (রহঃ) বলেন, আমার পিতা প্রতিনিধি হিসাবে মুআবিয়া (রাঃ)-র নিকট গেলেন। আমি তখন তরুণ। তিনি তার নিকট প্রবেশ করলে তিনি বলেন, মারহাবা মারহাবা। তার নিকটেই এক ব্যক্তি সোফায় বসা ছিল। তিনি বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এই ব্যক্তি কে যাকে আপনি মারহাবা বলে স্বাগত জানালেন? তিনি বলেন, ইনি প্রাচ্যবাসীর নেতা। ইনি হায়ছাম ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ)। আমি বললাম, ইনি কে? লোকজন বললো, ইনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ)। আমি তাকে বললাম, হে অমুকের পিতা! দাজ্জাল কোথা থেকে আত্মপ্রকাশ করবে? তিনি বলেন, তুমি যে এলাকার বাসিন্দা সেই এলাকার লোকদের চেয়ে দূরবর্তী বিষয় সম্পর্কে অধিক জিজ্ঞাসাকারী এবং নিকটবর্তী বিষয় অধিক ত্যাগকারী আমি আর কোন এলাকার লোককে পাইনি। অতঃপর তিনি বলেন, গাছপালা ও খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ ইরাক থেকে সে আত্মপ্রকাশ করবে। (তাবারানী)
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৭৬। মূসা ইবনে দিহকান (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাঃ)-কে লাল রং-এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় বাসর রাতের খাটের উপর বসা দেখেছি। (তাহাবী)
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৮৫। আবু বুরদা ইবনে আবু মূসা (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)-র নিকট বসলাম। তিনি বলেন, তুমি আমার পাশে এসে বসেছে অথচ আমার উঠে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি বললাম, তা আপনার ইচ্ছা। অতএব তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তিনি দরজায় পৌছা পর্যন্ত তার সাথে সাথে গেলাম।
হাদিসের মানঃ যঈফ
১১৯২। আবু যুরাইক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-র পুত্র আলীকে তার এক পা অপর পায়ের উপর অর্থাৎ ডান পা বাম পায়ের উপর রেখে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখেছেন।
হাদিসের মানঃ যঈফ
Comments
Post a Comment