অধ্যায়ঃ অর্থপূর্ণ নাম রাখা এবং কদর্য নাম পরিবর্তন



৮২১। আবু ওয়াহব আল-জুশামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন সাহাবী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা নবীগণের নামানুসারে নাম রাখো। নামসমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর হচ্ছে আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। যথার্থ নাম হচ্ছে হারিস (চাষী) ও হাম্মাম (দাতা) এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হচ্ছে হারব ও মুররা। -(নাসাঈ, আবু দাউদ, আহমাদ)


الأنبياء ...(তোমরা নবীগণের নামানুসারে নাম রাখো) এ বাক্য ব্যাতিত হাদিসটি সহীহ। (আলবানী)
হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]

৮২৬। হানবাল ইবনে হিয়াম (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যক্তিকে তার নামসমূহের মধ্যে তাঁর নিকট অপেক্ষাকৃত প্রিয় নামে বা উপনামে ডাকতেই পছন্দ করতেন। (তাহযীবুল কামাল)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৮২৯। সাঈদ আল-মাখযূমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর পূর্বনাম ছিল সারম (কর্তনকার, ছিন্নকারী)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখেন সাঈদ (ভাগ্যবান)। (অধস্তন রাবী আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন) আমি উসমান (রাঃ) কে মসজিদে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় দেখেছি। (হাকিম)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৮৩০। আলী (রাঃ) বলেন, হাসান ভূমিষ্ঠ হলে আমি তার নাম রাখলাম হারব (যুদ্ধ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বলেনঃ আমার নাতি আমাকে দেখাও, তোমরা তার কি নাম রেখেছে? আমরা বললাম, হারব। তিনি বলেনঃ বরং তার নাম হাসান। পরে হুসাইন ভূমিষ্ঠ হলে আমি তার নাম রাখলাম হারব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বলেনঃ আমার নাতি আমাকে দেখাও, তোমরা তার কি নাম রেখেছো? আমরা বললাম, হারব। তিনি বলেনঃ বরং তার নাম হুসাইন। অতঃপর তৃতীয় সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমি তার নামও রাখলাম হারব। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বলেনঃ আমার নাতি আমাকে দেখাও, তোমারা তার কি নাম রেখেছে? আমরা বললাম, হারব। তিনি বলেনঃ বরং তার নাম মুহসিন। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি হারূন (আঃ)-এর সন্তান শিবর, শুবায়র ও মুশাব্বির-এর নাম অনুসারে এদের নাম রাখলাম। (ইসতীআব, আহমাদ, হাকিম)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৮৩১। রায়েতা বিনতে মুসলিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হুনায়ন যুদ্ধে শরীক ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার নাম কি? আমি বললাম, গুরাব (কাক)। তিনি বলেনঃ না, বরং তোমার নাম মুসলিম। (আবু দাউদ, তারীখুল কাবীর)

হাদিসের মানঃ যঈফ

৮৩৫। উম্মে কুলসুম বিনতে ছুমামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হজ্জ উপলক্ষে (বসরা থেকে মদীনা) আসেন। তার ভাই মুখারিক ইবনে ছুমামা (রহঃ) বলেন, আপনি আয়েশা (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। কেননা বহু লোক তার সম্পর্কে আমাদের কাছে নানা কথা বলে। উম্মে কুলসুম (রহঃ) বলেন, আমি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আপনার কোন এক সন্তান আপনাকে সালাম জানিয়েছে এবং উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করেছে। তিনি বলেন, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ (তার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক)। তিনি বলেন, শোনো! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি উসমান (রাঃ) এবং আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই ঘরের মধ্যেই এই গরমের রাতে একত্রে দেখেছি। জিবরীল (আঃ) তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওহী নাযিল করেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান (রাঃ)-এর হাতে অথবা কাঁধের উপর চপেটাঘাত করে বলেনঃ লিখে নাও হে উসম! আল্লাহ তাআলা কারো প্রতি সদয় না হলে তার নবীর পক্ষ থেকে এমন মর্যাদা তাকে দেন না। সুতরাং যে উসমান (রাঃ) কে গালি দেয় তার প্রতি আল্লাহর গযব। (আহমাদ)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৮৩৯। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, মায়মূনা (রাঃ) এর নাম ছিল বাররা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখেন মায়মূনা।
হাদিসের মানঃ শা'জ

Comments

Popular posts from this blog

ঘুমানোর আদব-কায়দা

অধ্যায়ঃ মেহমানদারি