অধ্যায়ঃ পিতা-মাতার সাথে সদ্ধ্যবহার



৭। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে কোন মুসলমানের মুসলিম পিতা-মাতা জীবিত থাকলে এবং সে ভোরবেলা সওয়াবের আশায় তাদের খোঁজ-খবর নিলে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য বেহেশতের দু’টি দরজা খুলে দেন এবং তাদের একজন থাকলে একটি দরজা। সে তাদের কোন একজনকে অসন্তুষ্ট করলে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাকে সন্তুষ্ট না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হন না। বলা হলো, তারা তার উপর যুলুম করে থাকলে? তিনি বলেন, তারা তার উপর যুলুম করলেও (বাযযার)।হাদিসের মানঃ যঈফ

১২। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মারওয়ান তাকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছিল এবং তিনি তখন যুল-হুলায়ফা নামক স্থানে অবস্থান করতেন। তিনি একটি ঘরে বাস করতেন এবং তার মা আর একটি ঘরে বাস করতেন। যখন তিনি ঘর থেকে বের হতেন তখন তার মায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে বলতেন, “আসসালামু আলাইকে ইয়া উম্মাতাহ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” (মা! আপনার প্রতি শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। তার মা বলতেন, “ওয়া আলাইকা ইয়া বুনাইয়্যা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” (হে পুত্ৰ! তোমার উপরও শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। তিনি পুনরায় বলতেন, আল্লাহ “আপনার প্রতি দয়া করুন যেভাবে আপনি আমার শৈশবকালে আমাকে লালন-পালন করেছেন”। তার মা বলতেন, “আল্লাহ তোমার প্রতিও দয়া করুন যেরূপ আমার বার্ধক্যে তুমি আমার প্রতি সদ্ব্যবহার করছো”। অতঃপর তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখনও অনুরূপ বলতেন (আবু দাউদ)।
হাদিসের মানঃ যঈফ

২২। মুআয (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি নিজ পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করলো তার জন্য শুভ সংবাদ। আল্লাহ তার আয়ুস্কাল বৃদ্ধি করেন (হাকিম, তাবারানী, মুসনাদ আবু ইয়ালা)।
হাদিসের মানঃ যঈফ

৩০। ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ব্যভিচার, মদ্যপান ও চুরি সম্পর্কে কি বলো? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ এগুলি জঘন্য পাপাচার এবং এগুলির জন্য ভীষণ শাস্তি অবধারিত আছে। আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে মারাত্মক কবীরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না? মহান আল্লাহর সাথে শীরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্যাচারী হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসে বলেনঃ এবং মিথ্যাচার (বাযযার, তাবারানী)।
হাদিসের মানঃ যঈফ

৩৫। আবু উসাইদ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার কোন অবকাশ আছে কি? তিনি বলেনঃ হাঁ, চারটি উপায় আছে। (১) তাদের জন্য দোয়া করা, (২) তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, (৩) তাদের প্রতিশ্রুতিসমূহ পূর্ণ করা এবং (৪) তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করা, যারা তাদের মাধ্যমে তোমার আত্মীয় (দারিমী, ইবনে মাজাহ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)।
হাদিসের মানঃ যঈফ

৪০। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক বেদুইন সফরে গেলো। তার পিতা উমার (রাঃ)-এর বন্ধু ছিলেন। বেদুইন বললো, আপনি কি অমুকের পুত্র নন? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি তার সাথে আনা একটি গাধা বেদুইনকে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং নিজের মাথার পাগড়ী খুলে তাকে দান করলেন। তার এক সঙ্গী বললো, তাকে দু’টি দিরহাম দিলে কি যথেষ্ট হতো না? তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পিতার বন্ধুত্ব অটুট রাখো, তা ছিন্ন করো না। অন্যথায় আল্লাহ তোমার (ঈমানের) আলো নিভিয়ে দিবেন (মুসলিম, আবু দাউদ)।
হাদিসের মানঃ যঈফ

৪২। সাদ ইবনে উবাদা আয-যুরাকী (রহঃ) বলেন, তার পিতা বলেছেন, আমি মদীনার মসজিদে আমর ইবনে উসমানের সাথে বসা ছিলাম। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) তার ভাতিজার কাঁধে ভর করে আমাদের পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি মজলিস অতিক্রম করে যেতে যেতে ফিরে তাকালেন এবং আবার সেখানে ফিরে এলেন। তিনি বলেন, আমর ইবনে উসমান! তুমি কি চাও? তিনি দুই বা তিনবার একথা বলেন। তারপর বলেন, সেই সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন! নিঃসন্দেহে আল্লাহর কিতাবে (তাওরাত) দুইবার বলা হয়েছেঃ তোমার পিতা যাদের সাথে সম্পর্ক রাখতো, তাদের সাথে তুমি সম্পর্ক ছিন্ন করো না। অন্যথায় তাতে তোমার ঈমানের নূর নির্বাপিত হবে।
হাদিসের মানঃ যঈফ

৪৩। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবী (রাঃ) বলেন, তোমাদের জন্য যথেষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা আসে উত্তরাধিকার সূত্রে (বাযযার, হাকিম)।
হাদিসের মানঃ যঈফ
৪৫। শাহর ইবনে হাওশাব (রহঃ) বলেন, আমরা ইবনে উমার (রাঃ)-র সাথে বের হলাম। তার পুত্র সালেম (রহঃ) তাকে বলেন, হে আবদুর রহমানের পিতা! নামায।
হাদিসের মানঃ যঈফ

Comments

Popular posts from this blog

ঘুমানোর আদব-কায়দা

অধ্যায়ঃ অর্থপূর্ণ নাম রাখা এবং কদর্য নাম পরিবর্তন

অধ্যায়ঃ মেহমানদারি