অধ্যায়ঃ ভদ্র আচার ব্যাবহার
১৩৩। হাসান (রহঃ) বলেন, এক ইয়াতীম বালক ইবনে উমার (রাঃ)-এর আহার গ্রহণকালে নিয়মিত উপস্থিত হতো। এক দিন তিনি আহার নিয়ে ডাকলেন এবং ইয়াতীমকে খোঁজ করলেন, কিন্তু তাকে পাননি। তার আহার গ্রহণ শেষ হলে সে এসে উপস্থিত হলো। ইবনে উমার (রাঃ) খাদ্য নিয়ে ডাকলেন। তখন তাদের নিকট খাবার অবশিষ্ট ছিলো না। তার নিকট ছাতু ও মধু আনা হলো। তিনি বলেন, এটা গ্রহণ করো। আল্লাহর শপথ! তোমাকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে না। হাসান (রহঃ) এই হাদীস বর্ণনাকালে বলতেন, আল্লাহর শপথ! ইবনে উমার (রাঃ) আহার থাকতে তা লুকাননি।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৩৬। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে সেই ঘর সর্বোত্তম, যেখানে কোন ইয়াতীম আছে এবং তার সাথে সদ্ব্যবহার করা হয়। মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট সেই ঘর যেখানে কোন ইয়াতীম আছে এবং তার সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। আমি এবং ইয়াতীমের ভরণপোষণকারী বেহেশতে এই দুইটির মতো একত্রে থাকবো। এই বলে তিনি তার দুই আঙ্গুলের দিকে ইংগিত করেন (ইবনে মাজাহ)।
হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৩৬। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে সেই ঘর সর্বোত্তম, যেখানে কোন ইয়াতীম আছে এবং তার সাথে সদ্ব্যবহার করা হয়। মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট সেই ঘর যেখানে কোন ইয়াতীম আছে এবং তার সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। আমি এবং ইয়াতীমের ভরণপোষণকারী বেহেশতে এই দুইটির মতো একত্রে থাকবো। এই বলে তিনি তার দুই আঙ্গুলের দিকে ইংগিত করেন (ইবনে মাজাহ)।
হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
১৩৮। হাসান বসরী (রহঃ) বলেন, আমি এমন মুসলমানদের সাক্ষাত পেয়েছি, যাদের কেউ ভোরে উপনীত হয়ে তার পরিজনকে বলতেন, “হে আমার পরিবার, হে আমার পরিবার! তোমাদের ইয়াতীম, তোমাদের ইয়াতীম। হে আমার পরিবার, হে আমার পরিবার! তোমাদের দরিদ্রজন, তোমাদের দরিদ্রজন। হে আমার পরিবার, হে আমার পরিবার! তোমাদের প্রতিবেশী, তোমাদের প্রতিবেশী। তোমাদের সেই উৎকৃষ্টগণ (সাহাবীগণ) তো চলে গেলেন, আর তোমরা তো দিন দিন অধঃপতিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে দেখতে পাবে যে, পাপাচারী তিরিশ হাজার টাকার বিনিময়ে জাহান্নামের গভীরে প্রবেশ করছে। তার কি হলো! আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন। সে আল্লাহর কাছে তার প্রাপ্য অংশ একটি ছাগলের মূল্যে বিকিয়ে দিলো। তুমি ইচ্ছা করলে দেখতে পাবে যে, সে শয়তানের রাস্তার ইতর অনুসারী। সে নিজ বিবেকের উপদেশও গ্রহণ করে না এবং অন্যের উপদেশেও কর্ণপাত করে না।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৪০। আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি ও ঝলসানো (বিষন্ন) গালবিশিষ্ট নারী, যার স্বামী মারা গেছে, কিন্তু সে তার সন্তানের কারণে ধৈর্য ধারণ করেছে (পুনর্বিবাহ করেনি) জান্নাতে এই দুই (আঙ্গুল)-এর মত একত্রে বসবাস করবো (আবু দাউদ, মুসনাদ আবু ইয়ালা)।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৫১৷ সাহল ইবনুল হানযালিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার সন্তানাদি হতো না। তিনি বলেন, ইসলামী যুগে যদি আমার একটি সন্তান গর্ভপাত হয়ে মারা যেতো এবং আমি তাতে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করতাম, তাহলে আমি তাকে দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু আমার মালিকানাভুক্ত হওয়ার চেয়েও উত্তম বিবেচনা করতাম। ইবনুল হানযালিয়া (রাঃ) ছিলেন বৃক্ষতলে (হুদায়বিয়ায়) বায়আত গ্রহণকারী সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৫৫। আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলে তিনি বলেনঃ হে আলী! আমার নিকট একখানা ফলক নিয়ে আসো। আমি তাতে এমন কিছু লিখে দিবো যাতে আমার উম্মাত পথভ্রষ্ট না হয়। আমার আশঙ্কা যে, হয়তো সে সময় আমি পাবো না। আমি বললাম, নিশ্চয় আমি আমার কাঁধের পাণ্ডুলিপিতে এটা সংরক্ষণ করবো। তখন তাঁর মাথা তার কনুই ও আমার দুই বাহুর মাঝখানে ছিল। তিনি নামায, যাকাত এবং তোমাদের দাসদাসী সম্পর্কে ওসিয়াত করেন। তিনি এরূপ বলতে বলতে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাকে আদেশ দেন এই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল” এবং বলেনঃ যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিবে, দোযখের জন্য তাকে হারাম করা হবে (আবু দাউদ)।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৫৯। আবু উমামা (রাঃ) বলেন, ‘কানুদ’ (অকৃতজ্ঞ) সেই ব্যক্তি যে তার দান-খয়রাত বন্ধ রাখে, জনবিচ্ছিন্ন থাকে এবং নিজের দাসকে মারধর করে।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৬০। হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার উটে করে তার গোলামকে কূপ থেকে পানি তুলে আনতে নির্দেশ দিলো। কিন্তু গোলামটি ঘুমিয়ে গেলো। তার মনিব অগ্নিশিখাসহ এসে তা তার মুখের উপর নিক্ষেপ করলো। গোলামটি কূপের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়লো। পরদিন সকালে সে উমার (রাঃ)-র নিকট উপস্থিত হলো। তিনি তার মুখে পোড়া দাগ দেখে তৎক্ষণাৎ তাকে দাসত্বমুক্ত ঘোষণা করেন।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৬৪। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রীতদাস চুরি করলে একটি ‘নাশ’-এর বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রয় করে ফেলো। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ‘নাশ’ হলো বিশ দিরহাম ‘নাওয়াত’ হলো পাঁচ দিরহাম এবং ‘উকিয়া’ হলো চল্লিশ দিরহাম (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৮৩। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে ছিলেন। তিনি তাঁর বা উম্মু সালামার দাসীকে ডাকলেন। সে আসতে বিলম্ব করলো। তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির ভাব দেখা গেলো। উম্মু সালামা (রাঃ) উঠে পর্দার ওপাশে গেলেন এবং তাকে খেলায় রত দেখলেন। তাঁর হাতে ছিল মিসওয়াক। তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন প্রতিশোধ গ্রহণের আশংকা না থাকলে অবশ্যই আমি এই মিসওয়াক দিয়ে তোকে প্রহার করতাম। মুহাম্মাদ ইবনুল হায়সামের বর্ণনায় আরো আছেঃ সে একটি ছাগলের বাচ্চা নিয়ে খেলছিল। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আমি তাকে-সহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো শপথ করে বলছে যে, সে আপনার ডাক শুনতে পায়নি। তিনি আরো বলেন, তার হাতে ছিল একটি মিসওয়াক (তাবাকাত ইবনে সাদ)
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
১৮৯। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের দাসগণ তোমাদের ভাই। অতএব তোমরা তাদের সাথে সদয় ব্যবহার করো, যে কাজ তোমাদের পরাভূত করে তাতে তাদের সাহায্য গ্রহণ করো এবং যে কাজ তাদের পরাভূত করে, তাতে তোমরাও তাদের সাহায্য করো (আবু দাউদ)।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
Comments
Post a Comment