অধ্যায়ঃ পরস্পর সালাম বিনিময়



১০১২। হাইয়্যায ইবনে বিসাম আবু কুররা আল-খুরাসানী (রহঃ) বলেন, আমি দেখেছি যে, আনাস (রাঃ) আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে তার হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে আমাদের সালাম দিতেন। তাতে শ্বেতরোগের দাগ ছিল। আমি হাসান (রহঃ)-কে দেখেছি যে, তিনি হলুদ রঙ্গের খেজাব ব্যবহার করতেন এবং তার মাথায় থাকতো কালো পাগড়ী। আসমা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতের ইশারায় নারীদের সালাম দেন। (দারিমী, আহমাদ, আবু আওয়ানা)
হাদিসের প্রথম অংশ যইফ, আসমার কথা সহীহ। (আলবানী)
হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]

১০১৩। সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) ও কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ) এর সাথে সফরে রওয়ানা হন। তারা সারিফ নামক স্থানে উপনীত হলে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) সেই পথে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদেরকে ইঙ্গিতে সালাম দেন এবং তারা দু’জনে তার জবাবও দেন।
হাদিসের মানঃ যঈফ

১০২৫। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কৃপণ এবং যে ব্যক্তি সালামের উত্তর দেয় না সে প্রতারক। যদি তোমার ও তোমার অপর ভাইয়ের মাঝখানে কোন গাছ প্রতিবন্ধক হয় তবে যথাসাধ্য তুমিই তাকে আগে সালাম দিতে তৎপর হবে। সে যেন তোমার আগে তোমাকে সালাম দিতে না পারে।
হাদিসের মানঃ যঈফ

১০২৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-র মুক্তদাস সালেম (রহঃ) বলেন, কেউ ইবনে উমার (রাঃ) কে সালাম দিলে তিনি বর্ধিত শব্দযোগে তার উত্তর দিতেন। আমি তার নিকট আসলাম এবং তিনি তখন বসা ছিলেন। আমি বললাম, আসসালামু আলাইকুম। তিনি উত্তর দেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি পুনরায় তার নিকট এসে বললাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি উত্তর দেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি পুনরায় তার নিকট এসে বললাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি এবার জবাব দিলেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ওয়া তাইয়্যিবু সালাওয়াতিহি।
হাদিসের মানঃ যঈফ

১০২৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, তোমরা মদ্যপায়ীকে সালাম দিও না। (বুখারী)
এই আসারটি যইফ। (আলবানী)
হাদিসের মানঃ যঈফ
১০২৯। আবু জুরাইক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আলী ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) সম্পর্কে শুনেছেন যে, তিনি দাবা/পাশা খেলা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, যারা এই খেলায় অভ্যস্ত তোমরা তাদেরকে সালাম দিও না। কেননা তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ যঈফ

১০৩২। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, বাহরাইন থেকে এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো। সে তাকে সালাম দিলো কিন্তু জবাব তিনি দেননি। তার হাতে ছিল সোনার আংটি এবং তার পরনে ছিল একটি রেশমী জুব্বা। লোকটি বিষন্ন মনে ফিরে গিয়ে ঘটনাটি তার স্ত্রীকে জানালো। তার স্ত্রী বললো, হয়তো তোমার এই জুব্বা ও সোনার আংটির কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করে থাকবেন। সে এই দু’টি ফেলে দিয়ে পুনরায় ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিলো। তিনি তার সালামের জবাব দিলেন। সে বললো, কিছুক্ষণ আগে আমি আপনার নিকট এসেছিলাম। তখন আপনি আমাকে উপেক্ষা করেছেন। তিনি বললেঃ তখন তোমার হাতে দোযখের জ্বলন্ত অঙ্গার ছিল। সে বললো, তাহলে তো আমি অনেক অঙ্গারই সঞ্চয় করেছি। তিনি বলেনঃ তুমি তো তাই নিয়ে এসেছিলে। কারো কাছে হাররা প্রান্তরের পাথরের চেয়ে অধিক পরিমাণ সম্পদ থাকলেও তা তো পার্থিব জীবনের সম্পদই। সে বললো, তাহলে আমি কিসের আংটি বানাবো? তিনি বলেনঃ রূপা, পিতল বা লোহা দ্বারা। (নাসাঈ, আহমাদ)
হাদিসের মানঃ যঈফ

১০৩৭। হিময়ারের এক শাখার সদস্য যিয়াদ ইবনে উবায়েদ আর-রুয়াইনী (রহঃ) বলেন, আমরা রুয়াইফে (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন আনতাবুলসের আমীর (শাসক)। এক ব্যক্তি এসে তাকে সালাম দিয়ে বললো, আসসালামু আলাল আমীর। আবদা (রহঃ) এর বর্ণনায় আছে, সে বললো, আসসালামু আলাইকা আয়্যুহাল আমীর। রুয়াইফে (রাঃ) তাকে বলেন, তুমি যদি আমাকেই সালাম দিতে তবে অবশ্যই আমি তোমার সালামের জবাব দিতাম। তুমি তো মিসরের শাসক মাসলামা ইবনে মুখাল্লিদকে সালাম দিয়েছো। তুমি তার নিকট যাও, তিনিই তোমার সালামের জবাব দিবেন। রাবী যিয়াদ (রহঃ) বলেন, আমরা তার ওখানে গেলে এবং তিনি মজলিসে উপস্থিত থাকলে আসসালামু আলাইকুম বলতাম।
হাদিসের মানঃ যঈফ

১০৩৯। শাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উমার (রাঃ) আদী ইবনে হাতেম তাঈ (রাঃ) কে বলেন, সুনাম সহকারে আল্লাহ তোমায় দীর্ঘজীবি করুন।
হাদিসের মানঃ যঈফ

১০৫১। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি শপথ করে মিথ্যা বলে সে সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী। যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে মারাত্মক কৃপণ। যে ব্যক্তি নামায চুরি করে সে বড়ো চোর।
হাদিসের মানঃ যঈফ

Comments

Popular posts from this blog

ঘুমানোর আদব-কায়দা

অধ্যায়ঃ অর্থপূর্ণ নাম রাখা এবং কদর্য নাম পরিবর্তন

অধ্যায়ঃ মেহমানদারি