অধ্যায়ঃ কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক



৮৬৪। খালিদ ইবনে কায়সান (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন ইয়াস ইবনে খায়ছামা (রহঃ) তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন, হে ফারুক তনয়! আমার কিছু কবিতা কি আপনাকে আবৃত্তি করে শুনাবো? তিনি বলেন, হাঁ, তবে কেবল উত্তম কবিতাই শুনাবে। তিনি তাকে তা আবৃত্তি করে শুনাতে থাকেন। পরে কবিতায় ইবনে উমার (রাঃ) এর অপছন্দনীয় কিছু এলে তিনি বলেন, এবার থামো।
হাদিসের মানঃ যঈফ

৮৮১। উমার ইবনে সালাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান তার সন্তানদের আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়ার জন্য শাবী (রহঃ) এর নিকট সোপর্দ করেন। তিনি বলেন, এদের কবিতা শিক্ষা দিন, তাতে তারা উচ্চাভিলাসী ও নির্ভীক হবে, এদের গোশত খাওয়ান, তাতে তাদের হৃদয়ের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এদের মস্তক মুণ্ডন করান, তাতে তাদের ঘাড় শক্ত হবে এবং এদের নিয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের সমাবেশে বসুন। তাতে তাদের সাথে বাক্য বিনিময়ে তারা কথা বলার কৌশল আয়ত্ত করতে পারবে। (তারীখুল কাবীর, আবু হাতেম, ইবনে হিব্বান)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৮৮৯। আবদুর রহমান ইবনে আজলান (রহঃ) বলেন, উমার (রাঃ) দুই ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখন তীর নিক্ষেপ করছিল। তাদের একজন অপরজনকে বললো, اسبت (শুদ্ধ اصبت) অর্থাৎ তুমি নির্ভুল তীর ছুঁড়েছো। উমার (রাঃ) বলেন, উচ্চারণের ভুল তীর নিক্ষেপে ভুল করার চেয়েও মারাত্মক। (ইবনে আদী)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৮৯৫। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এক বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি কতক নারীকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল। তাকে দেখে তারা বিদ্রুপাত্মক হাসি হাসলো। ফলে তাদের কেউ কেউ বিপদগ্রস্ত হলো। (তাবারী, তাবারানী, ইবনে আদী, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৯০১। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মক্কার বাড়ির আঙ্গিনায় বসা ছিলেন। তখন উসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি কি বসবে না? তিনি বলেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমানের দিকে তাকিয়ে বলেনঃ এইমাত্র আল্লাহর দূত আমার নিকট আসেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তিনি আপনাকে কি বলেছেন? তিনি বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেন ন্যায়পরায়ণতা, সদাচার ও নিকট আত্মীয়-স্বজনকে দান-খয়রাত করার এবং বারণ করেন অশ্লীলতা, গৰ্হিত কর্ম ও বিদ্রোহ। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে” (সূরা নাহলঃ ৯০)। উসমান (রাঃ) বলেন, এটা তখনকার কথা যখন ঈমান আমার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি ভালোবাসতে শুরু করেছি। (আবু দাউদ)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৯১২। উসাইদ ইবনে আবু উসাইদ (রহঃ) থেকে তার মায়ের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু কাতাদা (রাঃ)-কে বললাম, আপনার কি হলো যে, লোকে যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস বর্ণনা করেন, আপনি তেমনটি করেন না? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন তার পার্শ্বদেশকে জাহান্নামের বিছানার জন্য সমতল করে নেয়। (একথা বলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দ্বারা মাটি স্পর্শ করেন। (শাফিঈ)
হাদিসের মানঃ যঈফ

৯২০। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নবজাতকদের আয়েশা (রাঃ)-র নিকট আনা হতো। তিনি তাদের জন্য বরকতের দোয়া করতেন। আমি (আলকামার মা) একটি নবজাতককে নিয়ে আয়েশা (রাঃ)-র নিকট এলাম। তিনি নবজাতকের বালিশ সরাতেই দেখা গেলো, একটি ক্ষুর তার শিয়রের নিচে। তিনি ক্ষুর সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বললো, আমরা জিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তা রেখেছি। তিনি ক্ষুরটি ধরে তা দূরে নিক্ষেপ করেন এবং তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেন। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস অপছন্দ করতেন এবং তাতে অসন্তুষ্ট হতেন। অতএব আয়েশা (রাঃ)-ও এরূপ করতে বারণ করেন।
হাদিসের মানঃ যঈফ

Comments

Popular posts from this blog

ঘুমানোর আদব-কায়দা

অধ্যায়ঃ অর্থপূর্ণ নাম রাখা এবং কদর্য নাম পরিবর্তন

অধ্যায়ঃ মেহমানদারি